প্রকাশিত: ১৫/১০/২০১৪ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারের ৭৬৪ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম

index8
নিউজ ডেস্ক:::
টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও আবারো প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। তারা নানা কৌশলে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে গত এক মাসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টেক নাফ থেকে উদ্ধার করেছে প্রায় ৫ লাখ ইয়াবা। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কৌশলের কারণে এসব ইয়াবার চালানের সাথে বেশির ভাগ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশে ইয়াবার চালান যায় টেকনাফ সীমান্ত থেকে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পাচার হয়ে আসছে নেশার ইয়াবা। এই ইয়াবার কারনে টেকনাফ সীমান্তের সামাজিক-জীবন যাত্রায় পর্যন্ত নেমে আসে চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। এর মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা নিয়ে গত মার্চ মাসের শেষ দিকে টেকনাফে ইয়াবা বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করে। এসব অভিযানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে ৬ জন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। আর এ ঘটনার পর ইয়াবার চিহ্নিত গডফাদাররা কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে গিয়েছিল। কিন্তু এর পর বন্ধ ছিল না ইয়াবা পাচার।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গডফাদাররা আত্মগোপনে যাওয়ার পর ইয়াবা পাচার কিছুটা কমে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় এ ইয়াবা পাচার আবারো বেড়েছে। ফলে টেকনাফে একের পর এক ধরা পরছে ইয়াবার বিশাল চালান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইয়াবার চালান উদ্ধার করেছে বিজিবি সদস্যরা। বিজিবির অভিযানে গত ১১ সেপ্টেম্বর ৫৮ হাজার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০ হাজার, ২৮ সেপ্টেম্বর ৯০ হাজার, ৪ অক্টোবর ১ লাখ ২০ হাজার ও ১০ অক্টোবর ৫০ হাজার ইয়াবার চালান জব্দ করে। কিন্তু প্রতিটি অভিযানে পাচারকারি পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি বলে বিজিবির পক্ষে জানানো হয়েছে। বিজিবি’র অভিযান ছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব সদস্যরা গত এক মাসে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করেছে প্রায় দেড় লাখ ইয়াবা।

সূত্র বলছে, অভিযানে আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত সাত শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী ফের টেকনাফে ফিরে গিয়ে পুরোদমে ইয়াবা পাচার শুরু করেছে। তারা কৌশল হিসেবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বুঝে পালিয়ে যাওয়ার কারণে ধরা পরছে না কেউ। একই সঙ্গে কয়েকজন চিহ্নিত গডফাদার চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান নিয়ে নৌ-পথে সরাসরি ইয়াবা নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে। ওখানেও গত এক মাসে উদ্ধার হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ ইয়াবা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৬ এর ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এক স্মারক পত্রের সূত্রে মাদকদ্রব্য অধিদফতরের যুগ্ন সচিব ও পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) প্রণব কুমার নিয়োগী স্বাক্ষরিত গত ২৩ জানুয়ারি একটি বিশেষ একটি প্রতিবেদনে ৭৬৪ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম লিপিবদ্ধ করে। ওই তালিকায় বলা হয়, সার্বক্ষণিক প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইয়াবার মুখ্য ভুমিকায় রয়েছেন টেকনাফের আলোচিত ৭ জন প্রভাবশালী। এ ৭ প্রভাবশালী ইয়াবা গডফাদারের মধ্যে বর্তমানে ২ জন রয়েছে কারাগারে। ২ জন বিদেশে। অপর ৩ জন টেকনাফেই রয়েছেন।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখার সমন্বয়ে তৈরী করা ওই তালিকায় থাকা এ ৭৬৪ জনের মধ্যে টেকনাফ পৌরসভার কলেজ পাড়ার ১ জন, কুলাল পাড়ার ৪০ জন, জালিয়াপাড়ার ৮১ জন, বাজারপাড়ার ৩ জন, লামার বাজার এলাকার ২ জন, চৌধুরী পাড়ার ২১ জন, কাইয়ুকখালী পাড়ার ১৯ জন, অলিয়াবাদ এলাকার ১১ জন, ইসলামাবাদ এলাকার ১১ জন, পুরাতন পল্লান পাড়ার ২০ জন, ইসলামাবাদ এলঅকার ৫ জন, ধুমগেরাং বিল এলাকার ১ জন, গোদার পাড় এলাকার ৪ জন, নাইট্যংপাড়ার ৩২ জন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কচুবনিয়া পাড়ার ১ জন, বড় হাবির পাড়া এলাকার ১৪ জন, ছোট হাবির পাড়া এলাকার ২ জন, মৌলভীপাড়ার ৩২ জন, নাজিরপাড়ার ৪২ জন, খানকারডেইল এলাকার ২৪ জন, চকবাজার এলাকার ২ জন, সুধারপাড়ার ১ জন, শীলবনিয়াপাড়ার ১৬ জন, ডেইল পাড়ার ২৪ জন, গোদারবিল এলাকার ১১ জন, মহেশখালিয়া পাড়ার ৩ জন, নতুন পলান পাড়ার ৯ জন, লেঙ্গুর বিল এলাকার ১৬ জন, উত্তর লেঙ্গুর বিল এলাকার ১ জন, উত্তর লম্বরীর ৬ জন, হাতিয়ারঘোনার ৫জন, করাচিপাড়ার ১ জন, ল্ডগারছড়ার ১ জন, রাজারছড়ার ২ জন, হাবির ছড়ার ১ জন, কেরুনতলীর ১ জন, বড়ইতলী ১ জন, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়ার ৭ জন, শাহপরীরদ্বীপ বাজারপাড়ার ৮ জন, শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়া ৩ জন, মিস্ত্রীর পাড়ার ৬ জন, শাহপরীরদ্বীপ ডেইল পাড়ার ৬ জন, ডাঙ্গর পাড়ার ১ জন, হাজিপাড়ার ২ জন, কোনারপাড়া ৩ জন, রাস্তার মাথার ২ জন, দক্ষিণ পাড়ার ৬ জন, উত্তর পাড়ার ১৪ জন, হারিয়ারখালীর ২ জন, কচুবনিয়া এলাকার ৫ জন, চান্দলীপাড়ার ১ জন, বাহারছড়ার ১ জন, নয়াপাড়ার ১৯ জন, কাটাবুনিয়ার ৫ জন, লাফারঘোনার ১ জন, জিনাপাড়া ১ জন, আচারবনিয়ার ৫ জন, ডেগিল্যার বিলের ৪ জন, লেজিরপাড়ার ৮ জন, পানছড়িপাড়ার ১১ জন, সিকদারপাড়র ৯ জন, বাজারপাড়ার ৪ জন, মঠপাড়ার ৩ জন, মন্ডলপাড়ার ২০ জন, চৌধুরীপাড়ার ১ জন, আলীর ডেইল এলাকার ৫ জন, মুন্ডার ডেইল এলাকার ১১ জন, হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের ১ জন, ফুলের ডেইল এলাকার ৫ জন, ওয়ারবাং এলাকার ১ জন, রোজারঘোনার ১ জন, পূর্বপাড়ার ৩ জন, মগপাড়ার ২ জন, পানখালীর ১৩ জন, সিকদার পাড়ার ৭ জন, উলুমচামরী এলাকার ১ জন, নাথমুড়া পাড়ার ১ জন, চৌধুরীপাড়ার ১ জন, রঙ্গীখালীর ৯ জন, পূর্ব লেদার ৯ জন, পশ্চিম লেদার ৫ জন, লেদার ১ জন, লেদা রোহিঙ্গা বস্তির ২ জন, মোচনীর রোহিঙ্গা ক্যা¤েপর ১জন, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যা¤েপর ১০ জন, জাদিমুরা এলাকার ৯ জন, দমদমিয়া এলাকার ২ জন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকার ১ জন, হোয়াইক্যং এর ৯ জন, বালুখালীর ৪ জন, তুলাতুলীর ১ জন, লম্বাবিল এলাকার ২ জন, নয়াপাড়ার ১ জন, নয়াবাজারের ১ জন ঝিমংখালীর ১ জন, মিনাবাজারের ১ জন, সাতঘড়িয়া পাড়ার ৪ জন, বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের ১ জন, পুরানপাড়ার ১ জন, নোয়াখালীর পাড়ার ৫ জন, জুমপাড়ার ১ জনের নাম রয়েছে।
যারা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে নতুন কৌশলে ইয়াবা পাচার শুরু করেছে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

পলাশ বড়ুয়া:: কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা দিবসের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা ...